তরঙ্গ, তরঙ্গের প্রকারভেদ, তরঙ্গ সংশ্লিষ্ট রাশি

তরঙ্গ, তরঙ্গের প্রকারভেদ, তরঙ্গ সংশ্লিষ্ট রাশি

⭐ তরঙ্গ (Wave): যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন কোন জড় মাধ্যমের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে একস্থান থেকে অন্যস্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলো স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করে না তাকে তরঙ্গ বলে।

image

⭐ তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপঃ

১. মাধ্যমের কণাগুলোর স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় কিন্তু কণাগুলোর স্থায়ী স্থানান্তর হয় না।

২. যান্ত্রিক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন।

৩. তরঙ্গ একস্থান থেকে অন্যস্থানে শক্তি সঞ্চালন করে।

৪. তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে।

৫. তরঙ্গের প্রতিফলন ও প্রতিসরণ ও উপরিপাতন ঘটে।

তরঙ্গ সাধারণত দুই ধরনের, অনুপ্রস্থ তরঙ্গ ও অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ।

⭐ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা আড় তরঙ্গ (Transverse Wave)

যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয়, সেই তরঙ্গকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।

image

⭐ দীঘল বা অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বা লম্বিক তরঙ্গ (Longitudinal wave)

যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের দিকের সাথে সমন্তরালে অগ্রসর হয়, সেই তরঙ্গকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে।

image

⭐ তরঙ্গ সংশ্লিষ্ট রাশি (Wave Related Quantities)

⭐ পূর্ণ স্পন্দন (One Complete Cycle): তরঙ্গের উপরস্থ কোনো কণা একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে যাত্রা শুরু করে আবার একই দিক থেকে সেই বিন্দুতে ফিরে এলে তাকে একটি পূর্ণ স্পন্দন বলা হয়।

⭐ পর্যায়কাল (Time Period): যে সময় পর পর তরঙ্গের পুনরাবৃত্তি ঘটে। অর্থাৎ যে সময়ে তরঙ্গের উপরস্থ কোন কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হয় তাকে পর্যায়কাল বলে। পর্যায়কালকে T দ্বারা প্রকাশ করা হয়। এর একক সেকেন্ড (s)।

⭐ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (Wavelength): তরঙ্গের উপর একই দশায় আছে এমন পর পর দু’টি কণার মধ্যবর্তী দূরত্বই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য। কম্পমান বস্তুর একটি পূর্ণ কম্পনে যে সময় লাগে সেই সময়ে তরঙ্গ যেটুকু দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলে। তরঙ্গ র্দৈঘ্যকে λ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। এর একক মিটার (m)।

⭐ দশা (Phase): কোনো একটি তরঙ্গায়িত কণার যে কোনো মুহুর্তের গতির সামগ্রিক অবস্থা প্রকাশক রাশিকে তার দশা বলে। গতির সামগ্রিক অবস্থা বলতে কণার গতির দিক, সরণ, বেগ, ত্বরণ ইত্যাদি বুঝায়। অনুপ্রস্থ তরঙ্গের উর্ধ্বচূড়াসমূহ বা নিম্নচূড়াসমূহ সর্বদা একই দশায় থাকে।

[মনে রাখতে হবে, তরঙ্গের ওপর দুটি বিন্দু সমদশা সম্পন্ন হতে হলে তাদের মধ্যে অবশ্যই ৩৬০ ডিগ্রী পার্থক্য থাকতে হবে।]

⭐ বিস্তার (Amplitude): তরঙ্গের উপর অবস্থিত কোন কম্পনশীল কণা স্থির বা সাম্যাবস্থান থেকে কোন একদিকে সর্বাধিক যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে বিস্তার বলে।

⭐ কম্পাঙ্ক (Frequency): প্রতি সেকেন্ডে যতগুলো পূর্ণ তরঙ্গ সৃষ্টি হয় তাকে তরঙ্গের কম্পাঙ্ক বলে। তরঙ্গ সৃষ্টি হয় কম্পনশীল বস্তু থেকে। তাই কম্পনশীল বস্তুর কম্পাঙ্ক তরঙ্গের কম্পাঙ্কের সমান। কম্পাঙ্কের একক হার্জ (Hz)।

⭐ তরঙ্গ বেগ (Wave Velocity): নির্দিষ্ট দিকে তরঙ্গ এক সেকেন্ডে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ বেগ বলে।

🍎 গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

০৭। অনুদৈর্ঘ্য ও অনুপ্রস্থ তরঙ্গের মধ্যে পার্থক্য লিখ।

০৮। শব্দ তরঙ্গ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ কেন ব্যাখ্যা কর।

০৯। পানির ঢেউ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ কেন ব্যাখ্যা কর।

১০। “আলো একটি অনুপ্রস্থ তরঙ্গ” – ব্যাখ্যা কর।

১১। পুকুরে ঢিল ছোঁড়া হলে কী তরঙ্গের সৃষ্টি হবে – ব্যাখ্যা কর।

১২। ঢিল ছুড়লে পানিতে আমরা ঢেউ দেখি কেন?

১৪। তরঙ্গের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।

২২। শূন্য মাধ্যমে শব্দ অগ্রসর হতে পারে না – ব্যাখ্যা কর।

২৩। বায়ু মাধ্যমে শব্দ কীভাবে সঞ্চালিত হয় – ব্যাখ্যা কর।

২৪। শব্দ তরঙ্গকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলা হয় কেন?

Powered by Forestry.md